নতুন মোবাইল কেনার আগে যা জানা দরকার ২০২৩

কম দামে ভাল ফোন কেনার গাইডলাইন ২০২২-kom dame valo phone

কম দামে ভালো ফোন ২০২৩


বর্তমানে আমাদের অধিকাংশ সময় কাটে মোবাইল ফোনের সাথে।আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াও  বিনোদনসহ অনেক ক্ষেত্রেই নিত্যসঙ্গী এই শক্তিশালী প্রযুক্তি।মোবাইল ফোনকে ঘিরে রয়েছে অনেক দানবীয় পুঁজিভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে নিজস্ব লাভ অর্থাৎ আপনার লাভ নিয়ে তারা ভাবে না।উল্টো নানা বৈশিষ্ট্যের ফোন এনে আপনাকে গোলকধাঁধায় ফেলে দেয়।এই শক্তিশালী গোলকধাঁধা হতে বের হওয়া কঠিন, তবুও চেষ্টা করতে তো অন্তত ক্ষতি নেই।তারই অংশ হিসেবে  নতুন মোবাইল কেনার আগে যা জানা দরকার-২০২২ শীর্ষক আর্টিকেলটি নিয়ে হাজির হয়েছি।



২০২২ সালে যারা  নতুন স্মার্টফোন কিনবেন ভেবেছেন তাদের জন্যই মূলত এই আর্টিকেলটি। মোবাইল কেনার আগে নিচের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলিয়ে স্মার্টফোন কেনার চেষ্টা করবেন।
 

মোবাইলে কতটুকু র‍্যাম দরকার? 

মোবাইলে কতটুকু র‍্যাম দরকার এই প্রশ্নের উত্তরে বলি, মোবাইলে র‍্যাম নেওয়ার আগে দুইটি বিষয় জানা দরকার। একটি হল র‍্যামের পরিমাণ ,অপরটি হল র‍্যামের টাইপ।


  • র‍্যামের পরিমাণঃ মোবাইলের র‍্যামের পরিমাণ হবে কমপক্ষে  ৮জিবি পর্যন্ত। 
  • র‍্যামের টাইপঃ নতুন মোবাইলে র‍্যামের টাইপ হবে LPDDR5,তবে বাজেট একটু কম হলে LPDDR4X  নেওয়া যেতে পারে। 

মোবাইলে কতটুকু স্টোরেজ দরকার? 

র‍্যামের মতই মোবাইল কেনার আগে স্টোরেজের দুইটি বৈশিষ্ট্য  জানা দরকার।একটি হল স্টোরেজের পরিমাণ,অপরটি হল স্টোরেজ টাইপ।

  • স্টোরেজের পরিমাণঃ নতুন মোবাইলে স্টোরেজের পরিমাণ হবে কমপক্ষে  ১২৮ জিবি। 
  • স্টোরেজ টাইপঃ মোবাইলে  EMMC টাইপের স্টোরেজ বাদ দিবেন।নতুন মোবাইলে  UFS টাইপের স্টোরেজ নিবেন।UFS 3.1, 3.0 ভার্সনের স্টোরেজ টাইপ নিতে পারেন। বাজেট একটু কম হলে UFS2.2 বা UFS2.1  ভার্সনের স্টোরেজ টাইপ নিতে পারেন।


মোবাইলে প্রসেসর কেমন হলে ভাল হয়?


মোবাইলে প্রসেসরে কোরসংখ্যা ও ক্লকস্পিড বেশি ও ন্যানোমিটার কম হলে ভাল হয়। প্রসেসর  নেওয়ার ক্ষেত্রে ৩টি বিষয় খেয়াল রাখবেন।

  • কোরসংখ্যাঃমোবাইলের প্রসেসরের কোরসংখ্যা কমপক্ষে OCTA CORE বা ৮ টি হলে ভাল হয়
  • ক্লকস্পিড ঃপ্রসেসরে ক্লকস্পিড কমপক্ষে ২.00 GHZ ।বাড়িয়ে নিলে আরও ভাল হয়।
  • ন্যানোমিটারঃ  প্রসেসরের ন্যানোমিটার হবে কমপক্ষে   ন্যনোমিটার।ন্যনোমিটার যত কম, ততই ভাল।

  

মোবাইলে ডিসপ্লে কেমন হলে ভাল হয়?

নতুন মোবাইল কেনার আগে ডিসপ্লে সেকশনে ৬টি বিষয় খেয়াল রাখা উচিত। 

  • ডিসপ্লের প্রটেকশনঃ মোবাইলের ডিসপ্লে প্রটেকশন হবে কমপক্ষে  CORNING GORILLA GLASS 5
  • ডিসপ্লের টাইপঃ মোবাইলের ডিসপ্লে টাইপ হবে কমপক্ষে AMOLED DISPLAY । SUPER AMOLED টাইপের ডিসপ্লে  হলে আরও ভাল।
  • ডিসপ্লের রেজুলেশনঃ মোবাইলের ডিসপ্লে রেজুলেশন হবে কমপক্ষে FHD+ ডিসপ্লে বা (1080 x 2400)
  • ব্রাইটনেসঃ নতুন মোবাইলের ব্রাইটনেস কমপক্ষে  1200 Nits( peak) হলে ভাল হয়।
  • রিফ্রেশ রেটঃ মোবাইলের রিফ্রেশ রেট হবে কমপক্ষে ১২০ হার্জ (গেইমার না হলে রিফ্রেশ রেট তেমন প্রয়োজনীয় না)
  • টাচ স্যাম্পলিং রেটঃ টাচ স্যাম্পলিং রেট হবে কমপক্ষে ১৮০ হার্জ


মোবাইলে ক্যামেরা কেমন হলে ভাল হয়?

আমরা নতুন মোবাইল কেনার আগে মেগাপিক্সেল দেখি। কিন্ত মেগাপিক্সেল  তেমন গুরুত্বপূর্ণ না।
মোবাইলে ক্যামেরায়  ভাল মানের সেনসর থাকলে ভাল হয়। 

  • সেনসরঃ SONY IMX SENSOR।তাছাড়া SAMSUNG HM SERIES, GN SERIES এর কিছু সেনসর ভাল।সবচেয়ে ভাল হয় যদি ইউটিউব থেকে স্মার্টফোন মডেল এর  ইমেজ স্যাম্পল দেখলে।
  • ক্যামেরার অ্যাপারচারঃকমপক্ষে ১.৮ প্রায়ই।  

   💎ক্যমেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় অনলাইন থেকে রিভিউ ও অনলাইনে স্যাম্পল ইমেজ দেখলে।




মোবাইলে কেমন ব্যাটারী দরকার?

 মোবাইলের ব্যাটারী কমপক্ষে   5000 MAH হলে ভাল হয়। 


মোবাইলের ওয়াই-ফাই কেমন হওয়া দরকার? 

মোবাইলের ওয়াইফাই এর ক্ষেত্রে দুইটা বিষয় জানা দরকার। একটি হল ওয়াইফাই ব্যান্ড, অপরটি হল ওয়াইফাইয়ের জেনারেশন। 

  •  ওয়াইফাই ব্যান্ড(Wi-fi Band): ওয়াইফাই ব্যান্ড অবশ্যই ডুয়াল ব্যান্ড দেখে নিবেন।উদাহারণঃdual band(2.4GHz/5GHz)
  • ওয়াইফাই জেনারেশন(Wi-fi Generation): ওয়াইফাই জেনারেশন হবে  কমপক্ষে Wi‑Fi 6 (802.11ax)। যদি বাজেট একটু কম হলে Wi‑Fi 5 (802.11ac) নেওয়া যেতে পারে।



মোবাইলের Bluetooth কেমন  হওয়া দরকার? 

 মোবাইলের Bluetooth ভার্সন 5.1 হওয়া দরকার।


মোবাইলের নেটওয়ার্ক কেমন হওয়া দরকার? 

মোবাইলের  প্রসেসর যদি  4G সাপোর্টেড হয় অবশ্যই দেখে নিবেন ক্যারিয়ার এগ্রিগেসন বা Carrier aggregation(4g+) আছে কিনা।কেননা এই ফিচারটি 4G নেটওয়ার্ক এর চেয়ে দ্বিগুণ ইন্টারনেট স্পীড দিবে।


মোবাইলে কতটুকু ফার্স্ট চার্জিং দরকার?

নতুন মোবাইলে কমপক্ষে ৫০ ওয়াট ফার্স্ট চার্জিং দরকার, যদি বাজেট কম হয় কমপক্ষে ৩০ ওয়াট ফার্স্ট চার্জিং দরকার।

 

মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ  ফিচার কোনগুলো?  

ইউএসবি টাইপ, ডুয়াল স্পিকার,গুগল ক্যামেরা,জায়রোস্কোপ সেনসর ইত্যাদি মোবাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফিচার।নতুন মোবাইল কেনার আগে অবশ্যই এসব ফিচার সম্পর্কে জানা দরকার। নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলঃ

  • USB TYPE C কিনা দেখে নিবেন।
  • ডুয়াল  স্পিকার কিনা দেখবেন। পাশাপাশি স্পিকার  কোয়ালিটি ভাল কিনা ইউটিউব থেকে স্যাম্পল  দেখবেন।
  • মডেল নাম্বার দিয়ে অনলাইনে  সার্চ করে WIDEVINE L1 সাপোর্ট করে কিনা দেখে নিবেন, সাপোর্টেড থাকলে আপনি 1080P রেজুলেশনে নেটফ্লিক্স ও ইউটিউবে ভিডিও দেখতে পারবেন। 
  •  GOOGLE CAMERA সাপোর্ট করে কিনা অনলাইনে সার্চ করে নিবেন।
  •  GYROSCOPE SENSOR সাপোর্ট করে কিনা অনলাইনে সার্চ করে নিবেন।



শেষ কথা, বেশি দামী স্মার্টফোন নেওয়ার পক্ষপাতী আমি নই।উপরের সব বৈশিষ্ট্যই ২০-৩০ হাজার  টাকার স্মার্টফোনে পাওয়া যায়।২০- ৩০ হাজার টাকার স্মার্টফোনে প্রয়োজনীয় সব বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলে, বেশি দামি মোবাইল ফোন নেওয়ার পক্ষপাতীও আমি নয়।কম দামে ভাল ফোন অর্থাৎ মোবাইলের দাম কম হতে হবে, স্পেসিপিকেশন ও ফিচার বেশি থাকতে হবে, এই হল পোস্টের সারকথা।


বি.দ্র. এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আরেকটি পোস্ট রয়েছে।নিম্নে লিংকটি প্রদান করা হলো-


Next Post Previous Post